• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ছাতকে পশু হাসপাতালে অর্ধলাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় থেকে পিস্তল, গুলি, ম্যাগজিন ও ফেনসিডিল উদ্ধার মির্জাগঞ্জে শেখ রাসেল এর ৫৮ তম জন্মদিন পালিত ছাতকে ১০টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল পাথঘাটায় রাগ করে ১২ বছরের কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সিলেট বিভাগ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের মতবিনিময় সভা পাথরঘাটায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ। গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ইসরাফিল হত্যার আসামী আটক ২ পাথরঘাটা গলায় ফাঁস দিয়ে ১৮ বছরের এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু! ছাতকে ৩৪ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১
ঘোষণা
দৈনিক আমার দিগন্তর পএিকায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে আজই যোগাযোগ করুন সম্পাদক দৈনিক আমার দিগন্তর মোবাঃ 01711169167

করোনায় স্বল্প পরিসরে পালিত হচ্ছে সুলতানের ৯৭ তম জন্মদিন।

দৈনিক আমার দিগন্তর / ৫০ বার
প্রকাশ হয়েছে : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

করোনায় স্বল্প পরিসরে পালিত হচ্ছে সুলতানের ৯৭ তম জন্মদিন।

মোঃ রাসেল মোল্লা,
নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ
দৈনিক আমার দিগন্তর।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। বরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। নড়াইলের পৌর এলাকার কুড়িগ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই গুনি শিল্পী।

গত বছরের মতো এবছরও করোনার জন্য স্বল্প পরিসরে পালন করা হচ্ছে শিল্পীর জন্মদিন। এ উপলক্ষে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সল্প পরিসরে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কোরআন তেলাওয়াত, সকাল ৯টায় শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সোয়া ৯টায় মিলাদ মাহফিল ও পুরষ্কার বিতরণী। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানালেন সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু। এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়।

নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি মেসের আলীর ঘরে ১৯২৪ সালের ১০ আগষ্ট গুণী এই শিল্পী জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মেছের আলীর নান্দনিক সৃষ্টির ঘঁষামাজার মধ্য দিয়ে ছোট বেলার লাল মিঞার (সুলতান) চিত্রাংকনে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হয়। তখন লাল মিঞার হাতের কাজও বেশ পাকা। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে লাল মিঞা নড়াইলের তৎকালীন জমিদার ধীরেন্দ্র নাথ রায়ের সুদৃষ্টিতে পড়েন। এসময় তিনি সুলতানকে কলকাতায় নিয়ে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ কলকাতা আর্ট স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক সায়েদ সোহরাওয়ার্দির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯৪১ সালে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অষ্টম শ্রেণী পাস সুলতানকে কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি করা হয়। ১৯৪৪ সালে কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান দখল করে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ হন শিল্পী সুলতান। কিন্তু প্রথাগত শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেননি তিনি।

সেখানে লেখাপড়া চলাকালীন তিনি কলেজ ছেড়ে কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চলে চলে যান। এবং সেখানে বসবাসরত পাহাড়ি উপজাতীয়দের জীবন জীবিকা সম্পর্কে জানতে তাদের সঙ্গে বসবাস ও তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে চিত্রাংকন শুরু করেন। পরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। শিল্পী সুলতান যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানসহ বিভিন্নদেশ সফর করেন এবং এসব দেশে প্রখ্যাত চিত্রকরদের সাথে তার ছবি প্রদর্শিত হয়।১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে শিল্পী সুলতান মাটির টানে নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় ফাইন আর্ট স্কুল ও “শিশুস্বর্গ” নামে শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শিশু-কিশোর প্রেমী সুলতান ১৯৮০ সালে নিজ বাড়িতে শুরু করেন, শিশু স্বর্গের নির্মাণকাজ। তিনি নিজ উদ্যোগে ১৯৯২ সালে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের “ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ” নামে দ্বিতল নৌকা নির্মাণ করেছিলেন। এ নৌকায় তিনি শিশুদের নিয়ে চিত্রানদীতে ভ্রমণ করতেন এবং নৌকায় বসেই তাদের চিত্রাংকন শেখাতেন। সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় বস্তু ছিল বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর ইত্যাদি।

শিল্পী সুলতানের ছবি ভারতের সিমলা, পাকিস্তানের লাহোর, করাচি, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন, এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকায় খ্যাতনামা বিভিন্ন চিত্র শিল্পীদের সঙ্গে যৌথ ভাবে প্রদর্শিত হয়। চিত্রাংকনের পাশাপাশি অসাধারণ সুরে বাঁশি বাজাতে পারতেন সুলতান। তাঁর হাতে প্রায়ই বাঁশি দেখা যেত। পুষতেন সাপ, ভল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিক, মুনিয়া, ষাড়সহ বিভিন্ন পশু-পাখি। তিনি বাড়িতে একটি ছোট খাটো চিড়িয়াখানা তৈরি করেছিলেন।

চিত্র শিল্পের খ্যাতি হিসেবে বরেণ্য এই শিল্পী ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদকসহ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ অসংখ্য পদকে ভূষিত হন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার,অসাম্প্রদায়িক এ গুণী শিল্পী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। নড়াইলের নিজ বাড়িতে তাকে সমাহিত করা হয়।


এ জাতীয় আরো খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!