• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা
দৈনিক আমার দিগন্তর পএিকায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলছে আজই যোগাযোগ করুন সম্পাদক দৈনিক আমার দিগন্তর মোবাঃ 01711169167

সড়কটি কার””??? সংস্কার করবে কারা???

দৈনিক আমার দিগন্তর / ৮৪ বার
প্রকাশ হয়েছে : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

“”সড়কটি কার””???
সংস্কার করবে কারা???

সাংবাদিক এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশে উন্নয়নের জোয়ারে
খাগড়াছড়ি – পানছড়ি সড়কের পাশে নালকাটা লোকালয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক যুগ ধরে ইটভাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভাটার মালিকরা। খাগড়াছড়ি – পানছড়ি সড়কের দূরত্ব পঁচিশ (২৫) কিলোমিটার। এর মধ্যে ইটভাটায় দখল করে রেখেছে এক কিলোমিটার সড়ক। শুধু সড়ক দখল করেনি। গ্রামের জনবসতিসহ বাইশ (২২) একর ফসলি জমির জায়গাও দখল করে নিয়েছে এই দু’টি ইটভাটায়। শুধু তাই নয়। স্ক্যাভেটর দিয়ে প্রতিদিন ফসলি জমির মাটি কেটে সড়কের পাশে এনে পাহাড়ের ঢিবি গড়ে তুলেছে। পাহাড় মাটি কেটেও আনা হচ্ছে প্রতিদিন শতশত ট্রাক্টরে করে। শুধু সড়কের পাশে পাহাড় তৈরী নয়, ফসলি জমিতেও কয়েকটি মানুষের তৈরী করা কয়েকটি পাহাড় রয়েছে। আর বনভূমি নিজস্ব বাগান-বাগিচা সম্পূর্ণ উজার হয়ে গেছে। এখন ওই বনভূমির কাঠ, বাগান-বাগিচার কাঠ ভাটায় দখল করা পাহাড় সমান কাঠের বা লাকড়ির স্তূপ। লক্ষ লক্ষ মন কাঠের বা লাকড়ির স্তূপ দেখে তো অবাক হয়ে যাবেন। এখানে কত পাহাড় রয়েছে। মানুষের তৈরী মাটির পাহাড় ৬/৭টি, কাঠের বা লাকড়ির পাহাড় ৪/৫টি করে রয়েছে প্রতিটি ভাটায়। মনে হয় সিমি পর্যটন বললেও ভূল হবে না। একটি ইটভাটার জন্য কতটুকু জায়গা দরকার তা অবশ্যই প্রশাসন জানে। কেন এতো বাইশ (২২) একর (আনুমানিক) ফসলি জমি দখল করলো কিভাবে? শুধু পরিবেশের ক্ষতিকারক তা নয়। ব্যাপক ফসলি জমির ক্ষতিকারকও বটে। গ্রামের জনবসতি বাড়িঘর ফসলি জমিসহ সরকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কএ এক কিলোমিটার দখল করে রেখেছে। কারণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার বা মেরামত না করায় ইটভাটায় দখল করেছে বলে ভূক্তভোগী মানুষের অভিমত। এই দু’টি ইটভাটার অবস্থান হচ্ছে নালকাটা গ্রামের লোকালয়ের মাঝখানে। এই ভাটাগুলোর দূরত্ব হচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর থেকে বিশ (২০) কিলোমিটার আর পানছড়ি উপজেলা কার্যালয় থেকে মাত্র ছয় (০৬) কিলোমিটার। এই এক কিলোমিটার সড়ক ইটভাটায় জবর দখল করে রাখায় সড়ক বিভাগ কোনো কাজ করতে পারেনি দীর্ঘদিন ধরে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অভিযোগ, ভাটায় ইট তৈরীর জন্য ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আনার ফলে সড়কের উপর মাটি পড়তে থাকে। যেমন বর্ষা আসতে না আসতেই সড়কটি কাদায় ভরে গেছে। কিন্তু সড়ক বিভাগের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ, সড়ক মেরামত বা সংস্কারের সময় কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারক ইটভাটাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কেন জানাইনি? সড়ক সংস্কার বা মেরামত না করায় সাধারণ মানুষের সন্দেহ সড়ক বিভাগকে গোপনে আতাঁত করে ইটভাটার মালিকরা। না হলে সড়কের সংস্কার বা মেরামত না করে এক কিলোমিটার কিভাবে পড়ে থাকলো (সংস্কার ছাড়াই) উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেন সড়ক সংস্কার বা মেরামত করা হলো না? খাগড়াছড়ি – পানছড়ি সড়কের দূরত্ব পঁচিশ (২৫) কিলোমিটার। তাই সরকার এই সংস্কার বা মেরামত করলে এক কিলোমিটার বাদ দিয়ে অর্থবরাদ্দ করবে না। সড়ক সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলে পঁচিশ (২৫) কিলোমিটারের জন্যই করবে। মাঝখানে এক কিলোমিটার সড়ক বাদ দিয়ে কখনই সরকার অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করবে না। সড়ককের এই পঁচিশ (২৫) কিলোমিটার থেকে কেন এক কিলোমিটার সড়ক বাদ দেয়া হলো তা এখন জনগণ জানতে চায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জবাব দিতে হবে। কেননা খাগড়াছড়ি – পানছড়ি সড়কের দূরত্ব পঁচিশ (২৫) কিলোমিটার। এ পঁচিশ (২৫) কিলোমিটার সড়কের মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর থেকে সাড়ে ঊনিশ কিলোমিটার আর পানছড়ি সদর থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার বা মেরামতের কাজ করে থাকে সড়ক বিভাগ। বাকী এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার বা মেরামতের কাজ করেনা। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জনগণ জানতে চায়। এ এক কিলোমিটার সড়ক কেন এক যুগ ধরে সড়ক বিভাগ সংস্কার বা মেরামত করা থেকে বিরত থাকে এর জবাব সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবশ্যই সুদোত্তর দেওয়া প্রয়োজন। তাই এখন মানুষের স্বাভাবিক প্রশ্ন এ এক কিলোমিটার “”সড়কটি কার””? কারণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামতের কাজ করেনি দীর্ঘ সময় ধরে। ফলে খাগড়াছড়ি – পানছড়ি সড়কের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করা স্থানীয় মানুষের চলাফেরা করা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যানবাহন চলন্ত অবস্থায় সড়কের কাদা মাটি ছিটকে পড়ে পথচারীদের গায়ের উপর। তখন পথচারীর পরিহিত পোশাক পরিচ্ছদ কাদা মাটিতে লেপতে যায়। এতে পথচারী ও যানবাহনের লোকজনদের অনেক সময় ঝগড়া ঝাটি করতে দেখা যায়। অভিযোগ করারও সাহস করেনা স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবেশ দুষণকারী ইটভাটার মালিকরা বিশেষ একটি মহলের সাথে যোগসূত্র রয়েছে। যে কেউ ইটভাটার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে ওই বিশেষ মহলের নিকট ডাক পড়ে। এতে কারোর বলার সাহস আর থাকে না। তাই এখন মানুষের স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে “”সড়কটি কার””? ? ? সড়ক বিভাগ সংস্কার না করায় সড়কের বেহাল দশা। খানা খণ্ডে ভরা বৃষ্টিতে কাদায় কাদায় পরিপূর্ণ। এ এক কিলোমিটার সড়ক এখন কাদা আর কাদা। হাঁটা চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আর রৌদ্রের সময় শুষ্ক মৌসুমে তো কথাই নেই। ধূলাবালির রাজ্যে পরিণত হয়ে সড়ক অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রতিদিন কত যান বাহন, শতশত পথচারি, কর্মকর্তা -কর্মচারী পানছড়ি – খাগড়াছড়ি কতবার আসা যাওয়া করেন । কিন্তু কারোর দৃষ্টি নেই। পরিবেশ দুষণের প্রতি কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। শুধু টাকার টাকা খেলা। টাকায় সব কিছু, টাকায় উন্নয়ন। টাকায় সব কিছু কেনা যায়। অফিস – আদালত, দলের নেতাকর্মীসহ কর্মকর্তাদের বশীভূত করে থাকে ভাটার মালিকরা। এ সড়ক দিয়ে কতবার এমপি, ডিসি, এসপি সরকারী গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কিন্তু কারোর চোখ পড়েনি এ ইটভাটার। সবাই অর্থের বিনিময়ে দু’চোখের প্রলেবে অন্ধকার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বাক প্রতিবন্ধী, হয়ে যায় বধিরতা। তাই এসব বিবেষনা হিসাব নিকাশ না করেই এক পলকে দেখা ছাড়া কোন উপায় নেই। প্রশাসন নিরব নিস্তব্দ নিথর, স্তম্বিত কোনো সাড়া শব্দ নেই। সকলেই রয়েছেন দর্শকের ভূমিকায়। শুধু পাগলের মতো চিৎকার করে প্রলাপ বকতে হবে এ “”সড়কটি কার””? সড়কটি কার? সড়কটি কার?’ কার —–

সাংবাদিক এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্বদেশ সমাচার নিউজ।
তাং জুন ২৮, ২০২১ খ্রি.


এ জাতীয় আরো খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!